রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে হাইকোর্টে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে ‘স্টেট ডিফেন্স’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত নথি ও আপিলের শুনানিতে তিনি আসামিপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভুইঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হওয়া বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হলেই হাইকোর্টে মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত নথি ও আপিলের শুনানি শুরু হবে।

এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের ওই নির্দেশনার পর ফৌজদারি মামলায় অভিজ্ঞ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এখন উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দম্পতির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন।

মৃত্যুদণ্ডের নথি হাইকোর্টে

গত ৯ জুন ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এর আগে ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অপরাধের ভয়াবহতা ও নিষ্ঠুরতা বিবেচনায় দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নির্ধারিত কক্ষে রাখা হয়। পরে তারা সেখান থেকেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

যেভাবে ঘটে আলোচিত হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি সোহেল রানা এ অপরাধ সংঘটন করেন এবং এতে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে দ্রুত বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্ন আদালত রায় ঘোষণা করে।

এখন হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত নথি এবং আসামিদের দায়ের করা আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।