৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ: ৬০ দিনের মধ্যে নতুন ফল প্রকাশের নির্দেশ

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ উল্লেখ করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা প্রকাশ এবং পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৪৬৫ জন চাকরিপ্রার্থীর দায়ের করা রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। অপরদিকে সরকারি কর্ম কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।

আইনের ব্যত্যয়ের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, নন-ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।

রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, আদালতের সামনে স্পষ্ট হয়েছে যে ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। আদালত মনে করেছেন, প্রচলিত আইন অনুসরণ না করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়ে পৃথক মেধা তালিকা প্রকাশ করার কথা। এরপর প্রার্থীদের পছন্দক্রম গ্রহণ করে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

৬০ দিনের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা

আইনজীবী পল্লব জানান, আদালত ৬০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নতুন মেধা তালিকা প্রকাশ এবং বিধি অনুসারে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তালিকা প্রস্তুতের সময় রিটকারী প্রার্থীদের বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। যদিও তাদের অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে, তবুও সংশ্লিষ্ট পদের বিধিবিধান অনুযায়ী যোগ্য হলে তাদের নিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্তদের ভবিষ্যৎ কী?

৪৩তম বিসিএস থেকে ইতোমধ্যে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পাওয়া ৬৪২ জনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, যারা আইনানুগভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে রিটকারীদের কোনো আপত্তি নেই।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা তালিকা তৈরি হলে বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তার ভাষায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকার বা সরকারি কর্ম কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

পিএসসির ওপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন

আইনজীবী পল্লব বলেন, দেশের লাখো শিক্ষার্থী সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষায় অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা রেখেই। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকলে মেধাবী প্রার্থীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

তিনি জানান, আদালতও তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়নি।

৪৩তম বিসিএসের পটভূমি

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার উভয় ধরনের পদে আবেদন আহ্বান করা হয়।

এই বিসিএসে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার প্রার্থী অংশ নেন। ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি ফল প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের জুলাই ও আগস্টে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৯ হাজার ৮০০ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।

একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে অক্টোবর মাসে শেষ হয়। রিটকারী ৪৬৫ জন প্রার্থীও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

সবশেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি কর্ম কমিশন ৪৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে।