তিন মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন মমতাজ, এখনই মুক্তি মিলছে না

দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা থাকায় এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, সারা হোসেন এবং আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

আদালতের আদেশের পর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় রুল যথাযথ ঘোষণা করে মমতাজের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

তিনি জানান, মমতাজের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। সোমবার যে তিনটি মামলায় জামিন হয়েছে, তার মধ্যে দুটি মানিকগঞ্জের এবং একটি কোতোয়ালি থানার মামলা।

আইনজীবী আরও বলেন, এর আগে আরও তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন মমতাজ। তবে ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে একটি মামলায় জামিন বহাল থাকলেও বাকি দুটি মামলার জামিন স্থগিত করে রুল শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার পৃথক তিনটি মামলার রুল শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে আশুলিয়া থানার একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন মমতাজ। গত ১৫ জুন হাইকোর্ট ওই তিন মামলায় রুল জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ২১ জুন চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন বহাল রাখেন। তবে ২২ জুন আশুলিয়া ও মিরপুর মডেল থানার দুটি হত্যা মামলার জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

লোকসংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় মমতাজ বেগম ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।