৭ বিভাগে ভারি বৃষ্টির আভাস, টানা ৫ দিন ভেজার পূর্বাভাস

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের সাত বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনজুড়েই দেশব্যাপী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২০ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত সতর্কবার্তা ও নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

৭ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

তবে চট্টগ্রাম বিভাগ এই সতর্কতার আওতায় না থাকলেও সেখানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। নিয়মিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিভাগটির অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ২৩ ও ২৪ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এ সময় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর অবস্থান

আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ বর্তমানে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।

এ অবস্থায় মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয়, অন্যান্য এলাকায় মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে।

ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

রাজধানী ঢাকায়ও আবার জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সর্বোচ্চ ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে।

তিনি বলেন, “রাজধানীর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মিরপুর ও কাজীপাড়া এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ার নজির রয়েছে।”

এ কারণে নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোথায় কত বৃষ্টি

সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়। এছাড়া তেঁতুলিয়ায় ৫৬ মিলিমিটার, খুলনায় ৬২ মিলিমিটার, সিলেটে ৩৩ মিলিমিটার এবং টাঙ্গাইলে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সতর্ক থাকার পরামর্শ

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর এ ধরনের সক্রিয়তা স্বাভাবিক হলেও টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা, সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং স্থানীয়ভাবে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, শ্রাবণের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে যাচ্ছে। ফলে নগরাঞ্চল থেকে শুরু করে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।