বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ‘মোস্ট সাসটেইনেবল এনার্জি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা অর্জন করেছে ডিজিটাল জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মাই ফুয়েল পাম্প’। ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকের দোরগোড়ায় জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল পিএলসির অনুমোদিত ডিজিটাল মোবাইল ডিলার হিসেবে ‘মাই ফুয়েল পাম্প’ বর্তমানে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিএসটিআই অনুমোদিত ও সিলযুক্ত মিটার সংবলিত মোবাইল ডিসপেন্সার ভ্যানের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের নির্ধারিত স্থানে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পদ্ধতিতে সরবরাহকৃত জ্বালানির পরিমাণ ও গুণগত মান সম্পর্কে গ্রাহক নিশ্চিত থাকতে পারেন। একই সঙ্গে সরাসরি ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাও বজায় থাকে।
২০২৫ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ‘মাই ফুয়েল পাম্প’ বিভিন্ন শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, হোটেল এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করছে। বর্তমানে শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি গ্রাহক তাদের সেবা গ্রহণ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ পর্যন্ত তারা ১০ লাখ লিটারেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার পার্থ প্রতীম চৌধুরী বলেন, এই অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং দেশের জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করা সম্ভব। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, এ সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পদ্মা অয়েল পিএলসি, গ্রাহক এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ও আস্থাই প্রতিষ্ঠানটিকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
দেশের জ্বালানি খাতে টেকসই পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পার্থ প্রতীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগর এলাকায় সেবা প্রদান করা হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের অন্যান্য বড় শহরেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা জ্বালানির অপচয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বিবেচনায় ডিজিটাল জ্বালানি সেবার বিস্তার দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে ‘মাই ফুয়েল পাম্প’ ইতোমধ্যে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটির এই স্বীকৃতি দেশের বেসরকারি খাতের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
