তিন পাটকলের লিজ, ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগে কর্মসংস্থান হবে ১১ হাজারের বেশি

বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিন পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে তিনটি পাটকলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এসব মিল পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি ১১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে পাটকলগুলোর লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

কোথায় কত বিনিয়োগ

বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সেখানে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খুলনার স্টার জুট মিলসে প্রতিষ্ঠানটি আরও প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এই মিলেও ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে হ্যামকো গ্রুপ প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। সেখানে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনটি মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

২৫ মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়

বিজেএমসি জানিয়েছে, বর্তমানে বন্ধ থাকা ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি পাটকলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মধ্যে নয়টি মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেশকে শক্তিশালী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে না। এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ বর্তমানের তুলনায় ভালো জীবনযাপন করতে পারে।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে। পাশাপাশি দেশের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা

পাটকলের লিজ চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসার প্রতিনিধিদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে ভিসার প্রস্তাব

ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

ভিসার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও টোল প্লাজায় ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ করা এবং ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জন দ্রুত ও সহজে দেশে আনার বিষয়ে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।