গত ১৭ বছরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাই এটি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুধু রেগুলেট করার নীতিতে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে।
রোববার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এদিনই প্রথম সচিবালয়ে যান আন্দালিব রহমান পার্থ। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন তিনি।
সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষকে কোনো বক্তব্য বা স্ট্যাটাস প্রকাশের আগে বহুবার ভাবতে হতো। সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল।
তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু গত ১৭ বছর এই স্তম্ভটির হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার পর মানুষকে ১০ বার চিন্তা করতে হতো সেটি রাখবে কি রাখবে না। সংবাদমাধ্যমের ওপরও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো জাতির ভবিষ্যতের ওপর। গত ১৭ বছরে বিচার বিভাগ থেকে সংসদ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিগত সরকারের ব্যর্থতা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিয়মের আওতায় পরিচালনা করা। দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোয় দেশ পরিচালিত হওয়ায় হঠাৎ করে সবকিছু পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে পরিবর্তনের সময় কোনো ধরনের অন্যায় যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে রেগুলেট করা, কন্ট্রোল করা নয়। ১৭ বছর দেশ একভাবে চলেছে, তাই হুট করে সিস্টেম পরিবর্তন করা কঠিন। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যেন কোনো অন্যায় না হয়। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করলে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন আন্দালিব রহমান পার্থ। এর আগে ২০০৮ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বিদায়ী তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
