‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ঢাকার মেয়র হবেন সেলিম উদ্দিন’

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে এবং ভোটে কোনো ধরনের কারসাজি না হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিজয়ী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সেলিম উদ্দিনের লেখা ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা মানবিক ঢাকার পুনর্গঠন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির বিষয়ে ব্রিফিং দেওয়া হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ যদি কোনো ধরনের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তাদের রায়ে সেলিম উদ্দিনই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হবেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি পড়াশোনা, লেখালেখি ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ। সেলিম উদ্দিনের বইটি জুলাই আন্দোলনের কঠিন সময় ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দেশের মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং কঠিন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। এত ব্যাপক ও সর্বজনীনভাবে মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনা ইতিহাসে খুব বেশি দেখা যায় না।

তার ভাষ্য, আন্দোলনের শুরুতে এর নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে বা এটি কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, তা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাজধানী ঢাকা উত্তাল হয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় এসে আন্দোলনে যুক্ত হন।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কার, তা নিয়ে বিতর্কে যেতে চান না জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আন্দোলনের বীজ কারা বপন করেছিলেন কিংবা কারা এর পরিকল্পনা করেছিলেন, সেসব তুলে ধরে কেউ কৃতিত্ব নিতে চান না।

সেলিম উদ্দিনের বইয়ে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে ১৭ জুলাই হজ থেকে দেশে ফেরার পর জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভূমিকা এবং সংকটপূর্ণ সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়গুলো বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে এমন বক্তব্য শুনতে হচ্ছে যে দীর্ঘ ১৭ বছর জামায়াতকে নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ ওই সময়ে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, কারাগারে গেছেন এবং রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে সব সময় তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। কারণ তারা রাজপথ, কারাগার ও আন্দোলনের মাঠে ছিলেন। জীবন বাজি রেখে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেছেন এবং আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশকে মানবিক ও বৈষম্যহীন করতে হলে রাজধানী ঢাকাকেও একইভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ঢাকা শুধু দেশের প্রশাসনিক রাজধানী নয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও কেন্দ্র। এই শহরকে বাসযোগ্য ও মানবিক নগরে পরিণত করা গেলে দেশের অন্যান্য নগরও এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা মানবিক ঢাকার পুনর্গঠন’ বইটি জুলাই আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নয়। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা এবং ওই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয় এতে তুলে ধরা হয়েছে।

ভবিষ্যতে জুলাই আন্দোলন নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে লেখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সাল থেকেই তাকে ঢাকা মহানগর থেকে জামায়াতে ইসলামীর মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তখন থেকেই তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা শুরু করেন।

তিনি বলেন, ঢাকার দায়িত্ব পেলে বিশ্বের উন্নত নগরগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও সমৃদ্ধ নগর গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।

অনুষ্ঠানে ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত জানানো হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ব্যারিস্টার শাহারিয়ার কবির, মুফতি মাওলানা আলী হাসান উসামা, ড. ফয়জুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।