সময়মতো স্থানীয় সরকারের সব স্তরে নির্বাচন হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই সাংবিধানিক বিধান ও নিয়ম মেনে নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনই জানানো হবে না।

রোববার সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, নির্বাচন আয়োজনের একটি নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই বিধান ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তাই এখনই নির্দিষ্ট তারিখ বলা সমীচীন হবে না।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু সিটি করপোরেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। সরকারের পরিকল্পনা হলো স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই নির্বাচন আয়োজন করা।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় লক্ষ্য নেই। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কার্যকর করা।

আগের নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঈন খান। তিনি বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণই তার প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচ্ছল মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারলেও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত সরকারের সময়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে অভিযোগ করে মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু হয়েছে এবং এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু এলজিআরডি মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের নীতি।

তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই মন্ত্রণালয়কে জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হলে সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সহজ হবে।