রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার কারণ জানাল পুলিশ

  • ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যা, গ্রেপ্তার ২

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্রও এলোমেলো করে রাখে অভিযুক্তরা।

রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে ওই বাড়ির ছাদে যায়। সেখানে বসে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান।

এ সময় পরিচয় গোপন রাখতে তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাবার চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার সময় স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও একইভাবে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

এরপর মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী। তাকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। ওই সময় অভিযুক্তরা তার গলায় ও মুখে রশি পেঁচিয়ে ধরে রাখে।

সবশেষে ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের ১২ বছর বয়সী শিশু আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে এবং বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ওই বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও বাকি ইয়াবা সেবন করে তারা। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে বাসা থেকে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বাসা থেকে নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলো পরে কাছের একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। এজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে ঘটনাস্থল দেখে পুলিশের কাছে ডাকাতির ধারণা তৈরি হয়।

এ ছাড়া বাসায় থাকা দুটি মোবাইল ফোনে যাতে আঙুলের ছাপ না থাকে, সে জন্য সেগুলো ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।