ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কোনো দেশের জন্যই সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে গত জুনে করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।
রোববার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানকে একসময় ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের সুরক্ষার জন্যই এ অবস্থার অবসান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা সংকট সমাধানের একটি কার্যকর পথ হতে পারে। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যারা ওই সমঝোতা সম্পাদনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেকেই মনে করেন, চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর করা গেলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সম্মানজনক ও যৌক্তিক সমাধান সম্ভব।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন। ৬০ দিনের ওই সমঝোতা ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে যাওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ।
সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল, নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একটি স্থায়ী চুক্তির নথি প্রস্তুত করে তাতে স্বাক্ষর করবেন। তবে চুক্তির শর্ত যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরান সমঝোতা থেকে সরে যায়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি কট্টরপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে সরকারের তুলনামূলক উদারপন্থি অংশের নেতা হিসেবে দেখা হয়। ইসলামাবাদ সমঝোতা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিতও বিভিন্ন সময়ে পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রশ্নে সরকারের কট্টরপন্থি অংশের অবস্থানের সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, সরকারকে অবশ্যই জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণের সেবা করতে না পারলে এবং তারা যে একই দেশ ও ভূখণ্ডের অংশ, সেই বিশ্বাস তৈরি করতে ব্যর্থ হলে পরাজয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হলেও এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ নেতা এবং দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি আয়াতুল্লাহ সায়ীদ হাসান খোমেনি।
পেজেশকিয়ানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সায়ীদ হাসান খোমেনি বলেন, কখনো কখনো একটি বিচক্ষণ সমঝোতা শত শত যুদ্ধের চেয়েও বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
