পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
সোমবার ঢাকায় ‘শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক দ্বিতীয় চীন-বাংলাদেশ গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূতের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচার কাউন্সেলর লি শাও ফেং।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ হিসেবে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও সুশৃঙ্খল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ সুশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে।
বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং সামুদ্রিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানানো হয়।
লি শাও ফেং বলেন, চীনের উন্নয়ন দর্শনে সাধারণ মানুষের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সুশাসনের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. লি খাইশেং এবং ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
