টাস্কফোর্সের সুপারিশ: পেশাদার নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিবিএস সংস্কার জরুরি

বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংস্কারে কাজ ও অর্থ খরচের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক সাতটি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। এদের সুপারিশের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে পেশাদার কাউকে বিবিএসের প্রধান হিসেবে নিয়োগের পরামর্শও রয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিএসের স্বাধীনতা বর্তমানে অপেশাদার কর্মীসংখ্যার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাটির অর্থায়নও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবিএসের কার্যক্রম তদারকি করতে এখনকার মতো আমলাতান্ত্রিক ‘মেকানিজম’ ব্যবহার করতে হয়। তবে টাস্কফোর্স সুপারিশ করেছে, এর বাইরে গিয়ে একটি ‘সুপরিকল্পিত শীর্ষস্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়নে ‘চ্যালেঞ্জ’ রয়েছে এবং এতে তারা হতাশা ভোগেন। টাস্কফোর্সের মতে, এ ক্ষেত্রে পেশাদার ব্যক্তিদের ‘মেধার’ ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বর্তমানে বিবিএসের প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় গ্রেডের একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগ পান। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, একজন পেশাদারকে প্রধান হিসেবে আনা হলে তার বেতন উচ্চতর গ্রেডে হওয়া উচিত।

টাস্কফোর্স বিবিএসের সাংগঠনিক কাঠামোতে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য প্রচার এবং আইটি বিষয়ক ইউনিট প্রতিষ্ঠারও পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “বিবিএস অপর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় ভুগছে।” এজন্য বিশেষ জরিপের জন্য বিদেশি সহযোগী সংস্থা থেকে অর্থের যোগান নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

টাস্কফোর্স স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ করার জন্য ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ এড়াতে এবং বিবিএসের ‘মেটাডেটা’ ও গবেষণা পদ্ধতি মাঝে মাঝে পর্যালোচনা করারও পরামর্শ দিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহামুদের কাছে দাখিল করা হয়। তবে প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সোমবার প্রকাশিত হলো।

টাস্কফোর্সের সভাপতি ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পারটিসিপেশন সেন্টার (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এর সদস্য ছিলেন বিবিএসের সাবেক মহাপরিচালক হোসেন আবদুল ওয়াজেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসআরটি-এর অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অতনু রব্বানী এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস।