সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দশ দলীয় জোট ঘরে ও বাইরে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার সিরাজগঞ্জে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, “নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকটি যুদ্ধে আমাদের মা-বোনদেরকে যোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধের চাইতে কঠিন কোনো কাজ আসমানের নিচে, জমিনের উপরে হয় না। সেই কাজে যদি মায়েরা ভূমিকা পালন করতে পারেন, তাহলে সমাজে এমন কোনো কাজ নাই—যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বর্তমান সমাজেও তারা কাজ করেন; কিন্তু দুইটা জিনিসের বড়ই অভাব। একটি হচ্ছে—তাদের নিরাপত্তা, আরেকটা হচ্ছে তাদের মর্যাদা। ইনশাআল্লাহ তাআলা আজিম, আমরা যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই; আমরা মায়েদেরকে মায়ের মর্যাদায় ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে—তিন জায়গায় নিরাপত্তা এবং মর্যাদা তাদের শতভাগ নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি। আমাদের চাইতে কেউ এই মূল্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন— তার প্রমাণ কেউ রাখতে পারেননি। যারা আজকে বড় গলায় কথা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের হাতেই আমাদের মা-বোনেরা মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুরি ভুরি প্রমাণ প্রতিদিন এই বীভৎস চিত্র উঠে আসে। তারা কি না আবার আমাদের সমালোচনা করেন। সাধু সাবধান, বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না; তাহলে ভেতরের সবকিছু প্রকাশ করে দেব।”
নারী-পুরুষের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “নারী-পুরুষে যেমন একটা পরিবার গড়ে ওঠে, ঠিক তেমনইভাবে নারী-পুরুষের সম্মেলনে একটা দেশ এবং সমাজ গড়ে ওঠে।”
সামাজিক সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে ভয় দেখায়, ‘এই ১০ দল যদি ক্ষমতায় যায় বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম, উপায় নাইরে—সব তালা মেরে দেবে ঘরে ঘরে’। ‘বোনদেরকে বের হতে দেবে না, মায়েদেরকে বের হতে দেবে না, লেখাপড়া করতে দেবে না, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেবে না’—এগুলা সব ধোঁকাবাজদের কথা।”
