রাজনৈতিক প্রার্থীর উপর হামলা, প্রতিদ্বন্দ্বী ও  তারেক  রহমানকে দায়ী : নাহিদ

ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাস এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সম্মতিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গণঅভ্যুত্থানে হাসিনাকে হটিয়েছি। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারব না, এমন ভাবলে তারা ভুল করবে। ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না।”

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে রমনার হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। সেখানে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে পৌঁছানোর পর একদল তরুণ তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। শারীরিকভাবে হামলার অভিযোগও ওঠে।

হামলার পরপরই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ফকিরাপুল মোড়ে পারাবত হোটেলের সামনে অবস্থান নেন। পরে ফকিরাপুল এলাকার একটি মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন পাটওয়ারী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে মির্জা আব্বাসের বাহিনী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।” তিনি বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তারেক রহমানের কাছে মির্জা আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। মির্জা আব্বাসের ইতিহাস আমরা জানি। তার রাজনৈতিক যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছে, সেটা ঢাকার মানুষ জানে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির রাজনীতি করেই ঢাকা শহরে মির্জা আব্বাস একটি সাম্রাজ্য গড়েছেন। সেই সাম্রাজ্য কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা দেশের মানুষের অজানা নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের উচিত ছিল দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”

নাহিদ ইসলাম বিএনপির অতীত শাসনামলের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা দুঃশাসন চালিয়েছিল। সেই ইতিহাস দেশের মানুষ ভোলেনি। যদি তারা এমন আচরণ চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা অতীতের কথা আরও বিস্তারিতভাবে বলতে বাধ্য হব।”

তিনি মির্জা আব্বাসকে সতর্ক করে বলেন, “আগে যা করেছেন, এখনও করছেন। কিন্তু পরিবর্তন না হলে এবারের নির্বাচনে এর ফল ভালো হবে না।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় মূলত ছাত্রদল ও যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাই রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা আব্বাস। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। হামলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।