রাজশাহীতে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে চরম শৈথিল্য ও তদারকি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি করছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জননিরাপত্তা হুমকির কথা জানিয়েছেন।
এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া এসিড আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, বিক্রি বা ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে রাজশাহী নগরীর বোসপাড়া এলাকার মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আইনের তোয়াক্কা না করেই এসিডভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ এসিড লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে নিজস্ব কারখানায় ড্যাম ফিক্সসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল তৈরি করছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড চলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদারকি বা নিষেধাজ্ঞামূলক কোনো ব্যবস্থা নজরে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসিডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের অবাধ ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈধ ব্যবসায়ীর ক্ষোভ
এসিড ব্যবহারের বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ-এর মালিক মোঃ কাওসার আলী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে তিনি নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করে আইন মেনে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু আনোয়ার কেমিক্যালের মতো লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিয়মনীতি ও তদারকি চলে, সেখানে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই এসিডের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে? বিষয়টি কি প্রশাসনের অজানা, নাকি জানা সত্ত্বেও উপেক্ষা করা হচ্ছে?”
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এছাড়া রাজশাহীতে এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাইয়েরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার
এসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের মালিক আনোয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “আমি আমার পার্টনার প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স কেমিক্যালের সঙ্গে যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম নেই।”
তবে তার এই বক্তব্যের পরও অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য জানায়নি।
