যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আজ, আরও শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি আজ সোমবার স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কহার কতটা কমানো যায়, তা নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ পক্ষ থেকে শুল্ক আরও কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আশা করছি শুল্ক আরও কমাবে। আমরা চেষ্টা করছি শুল্ক আরও কত কমানো যায় কিনা।” তবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে শুল্ক কতটা কমানো হতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট হার উল্লেখ করতে চাননি।

গত বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শতাধিক দেশের উপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তখন বাংলাদেশের উপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছিল। দরকষাকষির পর এই হার কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়, যা গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর আছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। ফলে বর্তমানে মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ।

শেখ বশিরউদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শুধু যে আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা না; আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস, সেই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়; আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি।”

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলী আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “৩৭ শতাংশের যে শুল্ক আমাদের উপর আরোপ হয়েছিল, যেটাকে আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা ২০ শতাংশের থেকেও কম পেতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেখানে বিব্রত হয়েছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ৬২৬টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েছে, যার মধ্যে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন তেল ও তুলার আমদানি বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেখ বশিরউদ্দীন এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। আমরা যে বিমান ক্রয়ের প্রস্তাবনা করছি, সেটার মূল্যমান হয়তোবা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা হবে।”

তিনি বিমান সংক্রান্ত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩৫ সাল নাগাদ মোট ৪৭টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে।

বোয়িংয়ের সাথে দরকষাকষি একটি আলাদা কমিটি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নির্দেশে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত একটি দল এই আলোচনা পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।