ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে নারী-পুরুষ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট প্রদান করেছেন। উপজেলাজুড়ে সংঘাত, বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সকাল ৭ টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট। এক নারী ভোটার জানান, “সকাল সকাল এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি। কোনো ঝামেলা নেই, পরিবেশ ভালো।” একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে ভালো লাগছে। প্রশাসন সুন্দরভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে।”
ধানের শীষ প্রতীকের এমপি প্রার্থী শাহ জাহান চৌধুরী সকালেই কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবেন, সেই রায় আমরা মেনে নেব।” একই সঙ্গে তিনি তার নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারীও ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই জনগণের প্রত্যাশা। ভোটাররা যেন কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন—আমরা সেটিই চাই।” তিনি তার সমর্থকদের শান্ত ও সংযত থাকার অনুরোধ জানান।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমা ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “উখিয়ায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।”
