নারী ভোটারদের জোয়ার কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে

গৃহস্থালির ব্যস্ততা, সাত-সকালে রান্নাবান্না আর শিশুদের দেখাশোনা সবই আজ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গৌণ হয়ে গিয়েছিল উখিয়া-টেকনাফের নারীদের কাছে। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে নারী ভোটারদের অভাবনীয় জোয়ার। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পর্দানশীন গৃহবধূ থেকে শুরু করে তরুণী ও প্রবীণ নারীদের এমন সরব উপস্থিতি নির্বাচনের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কক্সবাজার-৪ আসনে বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। সংঘাতের আশঙ্কা, কেন্দ্র দখল এবং সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে অনেক নারীই ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা বোধ করতেন। বিশেষ করে একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও নারীদের শাড়ি বা বোরকার সারি ছিল বেশ ক্ষীণ।
তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। আজ সকাল ৮টা বাজার আগেই উখিয়া ও টেকনাফের কেন্দ্রগুলোতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, ভোটারদের মনে এবার নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা ছিল না। প্রশাসনের কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে নারীরা নির্ভয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন।
রুমখা পালং ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা  কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা এক নারী ভোটার  বলেন, “আগে ভোটের দিন ডরে বাইর ন অইতাম। আজিয়া পরিবেশ খুব ভালা, আজিয়া বেয়াগগুনে মিলি আসছি। (আগে ভয়ের কারণে বের হতাম না, আজ পরিবেশ ভালো তাই সবাই মিলে এসেছি)।”
এই আসনে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে এই বিশাল নারী ভোটব্যাংক। প্রার্থীদের প্রচারণায়ও এবার নারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ছিল প্রধান।
তরুণী যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ছিল আলাদা উদ্দীপনা। বিভিন্ন কেন্দ্রে সেলফি তুলে প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে অনেককে। আবার অনেক জায়গায় দেখা গেছে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া নারীরাও নাতি-পুতিদের সাথে কেন্দ্রে এসেছেন। উখিয়া-টেকনাফের রাজনীতির ইতিহাসে এই নির্বাচনটি ‘নারীদের সরব উপস্থিতির নির্বাচন’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও অভিমত অনেকের।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “উখিয়ায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারীদের জন্য বিশেষ বুথ করেছিলাম। তাদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক।”