ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এই তথ্য দেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২৯৯টি আসনের ভোটে অংশ নেয় ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। একই দিনে সংস্কার ইস্যুতে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দুটি আসনের ভোট গণনা শেষ হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন অধিক গ্রহণযোগ্য ও আস্থাযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনগুলোর ভোটের হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৫ শতাংশ। এরপর বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের হার ওঠানামা করেছে। ১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ২০০১ সালে তা দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ২০ শতাংশে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়ার মধ্য দিয়ে আগের নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
