ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কমিটি গঠন, ঈদের আগে পরীক্ষামূলক বিতরণের লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। আসন্ন রোজার ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত নকশা ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড চালু করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের একটি ডিজিটাল এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) প্রণয়নের সুপারিশও করবে কমিটি। এছাড়া নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। পর্যায়ক্রমে অর্থ ও পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কমিটিতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আরও যারা থাকবেন তারা হলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সাচিবিক সহায়তা দেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, বিএনপির এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আগেও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারও টিসিবির পণ্য বিতরণে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছিল, যা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধী দলগুলো নতুন এই কর্মসূচি নিয়েও দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করছে। তবে সরকার দ্রুততার সঙ্গে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব আশঙ্কা নিরসনের চেষ্টা করছে।