ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ মাত্র দুই শব্দের একটি স্ট্যাটাস দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন।
শনিবার ইফতারের পর সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তাঁর ভেরিফায়েড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়, যা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি রিয়েকশন, ৩১ হাজার কমেন্ট এবং প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শেয়ার হয়েছে। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের এই দুই শব্দের বার্তা তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করলেও অন্যদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই পোস্টের আগে আজ সকালে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটান।
সেই অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটেই হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ পোস্টটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের পোস্টকে মন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
পোস্টের পর প্রতিক্রিয়া
হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে শুরু করেন। অনেকেই কমেন্টের মাধ্যমে একই স্লোগানে তাঁকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে, এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এই স্লোগানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই পোস্টের মাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ পরোক্ষভাবে মন্ত্রীর বক্তবের জবাব দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের মতে, এই দুই শব্দের বার্তার মধ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য।
এখন দেখার বিষয়, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই পোস্ট দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই ইস্যুটি নতুন কোন মোড় নেয়। ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
