মন্ত্রীদের বক্তব্যে লাগাম টানার আহ্বান সোহেল রানার

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সংযমী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক-পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শুক্রবার ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যে এখনই ‘লাগাম টানার’ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর একটি বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই পোস্ট দেন তিনি।

শুক্রবারের ওই পোস্টে সোহেল রানা লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, গত তিন দিনে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জনসাধারণ অত্যন্ত আনন্দ এবং আশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে আপনাকে।”

নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে সংযম প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তার ভাষ্য, “কিছু মন্ত্রীদের বক্তব্যে এখনই লাগাম টানানো দরকার। কোনো বিশেষ সংবাদ ছাড়া তাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের কোনো সংবাদ ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিলেই চলবে। বিশেষ প্রয়োজনে তাদের আসা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আসা যেতে পারে।”

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিবহন খাতে ‘চাঁদাবাজি’ প্রসঙ্গে দেওয়া এক মন্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ওইদিন সড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে’ নেওয়া টাকাকে চাঁদা বলতে নারাজি প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তবে ‘বাধ্য’ করে টাকা নেওয়াকে চাঁদা আখ্যায়িত করে সেটি বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পরবর্তীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে।

সোহেল রানা জানান, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে’ দেশের জন্য ভাবনা থেকেই তিনি এই পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা তো পৃথিবীর অনেক দেশের মন্ত্রীদের এভাবে প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেখি না; মুখপাত্ররাই কথা বলেন। খুব জরুরি কোনো বিষয় হলে তবেই তারা সামনে আসেন। আমাদের এখানে অনেক সময় মন্ত্রীদের হিরো হওয়ার মানসিকতা কাজ করে। কথাবার্তা এমনভাবে বলেন, শুনলে রাজনৈতিক কর্মী মনে হয়। কিন্তু এটা তো বক্তৃতার মঞ্চ না।

“নতুন সরকারের দুই-একজন মন্ত্রীর দুই-একটা কথা আমার ভালো লাগেনি। শুরুতেই যদি এসব বিষয়ে লাগাম টানা না হয়, তাহলে সামনে আরও অনেকে উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব ভাবনা থেকেই পোস্টটি দেওয়া।”

শারীরিক নানা সমস্যায় জর্জরিত সোহেল রানা এখন আর অভিনয়ে নিয়মিত নন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই সরব থাকেন তিনি এবং বিভিন্ন প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

১৯৭৩ সালে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় ও পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ ঘটে সোহেল রানার। ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘লালু ভুলু’ (১৯৮৩), ‘অজান্তে’ (১৯৯৬) ও ‘সাহসী মানুষ চাই’ (২০০৩) ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসরে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।