কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পুষ্পস্তবক হাতে পাঁচজন ব্যক্তি শহীদ মিনারের বেদির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিষ্টি সুভাষও রয়েছেন, যিনি গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণও করেছেন।

তারা যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, তার সঙ্গে সাদা কাগজে লেখা ছিল: ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী’।

উল্লেখ্য, এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিলে ফুল ও ব্যানার রেখেই দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হয় তাদের।

তবে শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে আসা এই পাঁচজন কোনো বাধার সম্মুখীন হননি।

এ প্রসঙ্গে সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মিষ্টি সুভাষ বলেন, “পুষ্পস্তবকের মাঝে যে সাদা কাগজটা ছিল, সেটা আমার কোমরে গোঁজা ছিল। সেটি বের করার সময় একজন দেখে ফেলেন। ওই ব্যক্তি কয়েকজনকে বলেন, ‘দ্যাখ দ্যাখ, শেখ হাসিনার শ্রদ্ধাঞ্জলী দিচ্ছে’। তখন আমি পাল্টা চড়াও হলে ওই ব্যক্তি চুপ হয়ে যান।”

তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে রুবেল, রায়হান ও হাসিব ছিল। তারা বিভিন্ন কাজে আমার সঙ্গে থাকে।”

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও হয়েছে তার।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে যারা আছেন, তারাও নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো কর্মসূচিতে সামনে আসতে পারছেন না।

তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাঝে মাঝে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচি থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারও করেছে, যাদের তালিকায় মিষ্টি সুভাষও আছেন।

শুক্রবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের মিষ্টি সুভাষ বলেন, “আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদরদের দল জামায়াতে ইসলামী দেশের অবস্থান নষ্ট করেছে। তারা এখানে এসে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর নতুন ষড়যন্ত্র করছে।”

প্রসঙ্গত, চব্বিশের অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিকে ‘প্রতারণার কৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে মিষ্টি সুভাষ বলেন, “এই জায়গায় আমরা লজ্জাবোধ করছি, কারণ দেশের মানুষ আবার সেটা মেনেও নিচ্ছে। শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারি না, এটা জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণার কৌশল।”

মিষ্টি সুভাষ আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, যখন শেখ হাসিনার ‘জন্মদিন পালন করতে’ গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি হেনস্তার শিকার হন। এরপর একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের এই নেতা। পরে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে এবং এসব মামলায় দুই দফায় প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।