অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা বিভিন্ন বিদেশি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) সম্মানীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আয়োজিত এক সংবাদব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে নানা ধরনের বৈদেশিক চুক্তি করেছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেই নয়, বন্দর ব্যবস্থাপনা ছাড়াও অন্যান্য খাতেও এমন কিছু চুক্তি হয়েছে যা সম্পর্কে হয়তো সাধারণ মানুষ এখনো অবগত নয়।
তিনি বলেন, “এই সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিগুলোকেও পুনর্বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের ওপর এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায় তা খতিয়ে দেখা যায়।” তিনি আরও বলেন, যেহেতু নতুন সরকার এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্রাজুয়েশন পুনর্মূল্যায়নে রাজি হয়েছে, সেহেতু এই চুক্তিগুলোকেও সেই পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা দরকার।
অর্থনৈতিক সংযম ও দায়-দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার
অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন সিপিডির এই সম্মানীয় ফেলো। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে বড় কোনো কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিপক্ষে মত দিয়ে তিনি সরকারকে অর্থনৈতিক বিষয়ে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।
নতুন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটু বাস্তবসম্মত হন, রাষ্ট্রনায়কোচিতভাবে আমাদের এগুতে হবে।” তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টাকা ছাপানোর পথ না নেওয়ার কঠোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা যদি আমাদের থাকে তাহলে টাকা ছাপানোর চিন্তা আমরা যেন স্বপ্নেও না করি।”
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ী সময়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও কিছুটা খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়া, চলতি ব্যয় সংকোচন না করা এবং এডিপিতে সামঞ্জস্য না আনার কারণে এমনটি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে একটি দুর্বল ও নাজুক ঋণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাজার সিন্ডিকেট ও ফ্যামিলি কার্ড
বাজার ব্যবস্থায় সক্রিয় সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে নেতারা বলেছেন সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন প্রথম দিন থেকে- আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি। ওই সিন্ডিকেটগুলোর যে রাজনৈতিক শক্তি আছে সেটাও তো আমরা জানি।” এমনকি এসব সিন্ডিকেট নির্বাচনে অর্থায়ন করেছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।
সংবাদব্রিফিংয়ের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এসময় সংগঠনের আরেক সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানও বক্তব্য রাখেন।
