আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে এ এম এম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহে কমিশন সভায় এই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।
এরই মধ্যে সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, আগামী রমজান মাসে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ও ওই দুই আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে এবং প্রশাসক নিয়োগ দেয়। ওই সব প্রতিনিধির অধিকাংশই ছিলেন আওয়ামী লীগের। বর্তমানে ওই সব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহাদাত হোসেন।
ইতোমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি স্থানীয় সরকারের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, আবার কারও মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকার দুই সিটিতে সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চট্টগ্রামে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদের উপনির্বাচনের পর পরই স্থানীয় সরকারের সিটি ভোট হয়ে যাবে। স্থানীয় সরকারের জেলা, উপজেলা, পৌরসভার ভোটও রয়েছে। মেয়াদ বিবেচনায় ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট আগে হবে, এসব নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। কমিশন সভায় বসে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে।”
আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সিটি নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর তারা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের সহকর্মীদের নিয়ে সিটি নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, সংসদের উপনির্বাচন ও সংরক্ষিত আসনের ভোট শেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রমজান, ঈদ, বর্ষা—সবকিছু বিবেচনায় রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে ইসি।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজনে সরকার উদ্যোগী হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অনুযায়ী আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আর আইনি সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান এই আইন-অধ্যাদেশ মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।
