ইউক্রেনে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে স্লোভাকিয়া। রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ আবারও চালু করার দাবিতে এই হুমকি দেয়া হয়েছে।
শনিবার স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এই হুমকি দেন। রাশিয়ার তেল ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছায়। তবে প্রায় এক মাস ধরে এই সরবরাহ বন্ধ রেখেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় তাদের পশ্চিমাঞ্চলে পাইপলাইনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে স্লোভাকিয়া এবং হাঙ্গেরি সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীল। সোভিয়েত আমলের ‘দ্রুজবা’ পাইপলাইন দিয়ে এই তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে এই দুই দেশের নেতৃত্বই মস্কোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।
সম্প্রতি স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ফলে জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর তাদের ভরসা করতে হচ্ছে। আর এই বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো স্লোভাকিয়া। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রায় ১৮ শতাংশই আসে স্লোভাকিয়া থেকে।
প্রধানমন্ত্রী ফিকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “সোমবারের মধ্যে যদি স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহ আবার শুরু না করা হয়, তাহলে আমি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসইপিএস-কে ইউক্রেনে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেব।”
অবশ্য এই সংকট সমাধানে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। পাইপলাইন মেরামতের সময় তারা যাতে জাহাজে করে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর হয়ে স্লোভাকিয়ায় তেল পাঠাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলেছে। এমনকি নিজেদের তেল পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, গত অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে তাণ্ডব চালাচ্ছে রাশিয়া। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তীব্র শীতের মধ্যে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পড়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চললেও ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে আসছে ইউক্রেন। এই যুদ্ধের চার বছর পূর্তি হতে চললেও ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি অনেক কমিয়ে দিলেও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।
