হামজা চৌধুরীর চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটিয়ে আশার আলো শোনালেন কোচ কাবরেরা

আগামী ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তার আগে দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর হাঁটুর চোট নিয়ে কিছুটা দুর্ভাবনায় ছিল বাংলাদেশ শিবির। তবে এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তির খবরই শোনালেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কাবরেরা। সেখানে হামজার চোট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, লেস্টার সিটির চিকিৎসক এবং হামজার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। সবকিছু ইতিবাচক বলেই মন্তব্য করেন এই কোচ।

“আমি হামজার সাথে এবং লেস্টার সিটির চিকিৎসকের সাথেও যোগাযোগ রাখছি। আমরা ইতিবাচক। আশা করি, তার রিকভারি খুব ভালোভাবেই হবে,” বলেন কাবরেরা।

তিনি আরও জানান, হামজা ছাড়াও দলের অন্য খেলোয়াড়দের বিষয়েও খোঁজ রাখছেন তিনি। গত পরশু শোমিতের (সোম) সাথেও কথা বলেছেন বলেও জানান এই কোচ।

“শোমিতের সাথেও কথা হয়েছে। গত পরশু তার সাথে কথা বলছিলাম। সে যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পে যোগ দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। এমনকি, আমরা তাকে ঢাকার ক্যাম্পেই পাওয়ার চেষ্টা করব। সে পুরোপুরি ফিট আছে।”

হামজার মাঠে ফেরার সময়সূচি প্রসঙ্গে কাবরেরা বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। আমাদের জানা মতে, মার্চের মাঝামাঝি তার মাঠে ফেরার কথা আছে। সেই অনুযায়ী আমরা ঠিক করব সে কবে ক্যাম্পে যোগ দেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে, সে ইতিবাচক আছে এবং আমরাও আশাবাদী যে, অন্তত সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে।”

সিঙ্গাপুর ম্যাচকে সামনে রেখে প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল ৩ জানুয়ারি। প্রায় দুই মাস বিরতির পর আগামী ৬ মার্চ থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। লিগের একাদশ রাউন্ড শেষে ১৪ মার্চের পরই সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন কাবরেরা।

“ক্যাম্প শুরুর তারিখ এখনও নিশ্চিত হয়নি। আমরা আলোচনা করছি। আশা করছি, লিগের শেষ রাউন্ডের ঠিক পরেই শুরু হবে। ১৪ই মার্চের দিকে হওয়ার কথা। আমি বলব, ১৬ই মার্চের দিকে ক্যাম্প শুরু হতে পারে। কয়েক দিন আমরা ঢাকায় থাকব, সম্ভবত তিন-চারটি ট্রেনিং সেশন হবে। এরপর ২৬ তারিখে প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য আমরা ভিয়েতনাম যাব এবং সেখান থেকে ৩১ তারিখে অফিশিয়াল ম্যাচ খেলতে সিঙ্গাপুরে যাব।”

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে এখন পর্যন্ত জয়হীন বাংলাদেশের পয়েন্ট দুই। টেবিলের তলানিতে অবস্থান করায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিয়েতনাম সফর ও প্রস্তুতি ম্যাচ

ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনার কথাও জানান কাবরেরা। উঁচু র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন,

“এ বছর আমি যে পরিকল্পনা জমা দিয়েছি, তার অন্যতম পয়েন্ট ছিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলা। আমার প্রস্তাব ছিল, এ বছর দল যেন উঁচু র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর মুখোমুখি হয়, যাতে বছরের শেষে সাফের জন্যও সেরা প্রস্তুতি নেওয়া যায়। আমি বিশ্বাস করি, র্যাঙ্কিংয়ের ১০৮তম দল ভিয়েতনাম আমাদের জন্য ভালো প্রতিপক্ষ এবং ভালো চ্যালেঞ্জ হবে।”

মাতৃভাষা দিবসে কাবরেরার অনুভূতি

বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে কাজ করছেন কাবরেরা। ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন এবং একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

“বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার বছর আছি। এটা সবসময়ই আনন্দের। আমি এখানকার সংস্কৃতি সত্যিই উপভোগ করি। দল, খেলোয়াড় ও হাসান ভাইয়ের মতো কোচদের সাথে এই সময়গুলো উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এই সংস্কৃতির প্রতি আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল এবং যতটা সম্ভব উপভোগ করার চেষ্টা করি।”

বাংলা ভাষা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি কিছু (বাংলা) শব্দ জানি, কিন্তু সম্মানের খাতিরে আমি এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমি বাংলা ভাষাকে খুব শ্রদ্ধা করি। আশা করি, সবাই আজকের মাতৃভাষা দিবস উপভোগ করবেন।”

কোচের ভবিষ্যৎ ও নারী দলের জন্য শুভকামনা

বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও তিনি আপাতত সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান।

“ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। চুক্তির আরও দুই মাস বাকি আছে এবং আমার কাছে সামনে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর ম্যাচ দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এরপর এ নিয়ে কথা বলব, তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।”

একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় উইমেন্স এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য শুভকামনা জানাতে ভোলেননি তিনি।

“হ্যাঁ, তাদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। আমি এই দলের ব্যাপারে সবসময় একই কথা বলি—খুব লড়াকু একটা দল, যারা সবসময় দারুণ পারফরম্যান্স করতে প্রস্তুত। আমি নিশ্চিত এশিয়ান কাপে তারা খুব ভালো করবে এবং নারী জাতীয় দলকে নিয়ে সবাই গর্বিত হবে।”

অনুষ্ঠানে নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথেও সাক্ষাৎ হয়েছে কাবরেরার। দুজনে কুশল বিনিময় করেছেন এবং শীঘ্রই বিস্তারিত আলোচনার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

“উনার সাথে আমার খুব বেশি জানাশোনা নেই। তবে আগে কয়েকবার দেখা হয়েছে। আমি তার সম্পর্কে খুব ইতিবাচক কথাবার্তা শুনেছি। তার সাথে দেখা করা এবং আলোচনার অপেক্ষায় আছি।”