ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে এক নারী ও তার ১০ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত কুদসাই গ্রামে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম জ্যোতি সিনকু (২২)। এ ঘটনায় তার স্বামী কোলহান সিনকুও গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গ্রামে ছড়ানো কিছু গুজব থেকে। সম্প্রতি ওই গ্রামে কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির অসুস্থতা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। বিরুয়ার স্ত্রী জানান, স্বামী অসুস্থ হলে তিনি স্থানীয় এক হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ওই হাতুড়ে ডাক্তার দাবি করেন, বিরুয়া শারীরিক কোনো রোগে নয়, বরং কারও ‘কুনজর’ বা জাদুটোনার কারণে অসুস্থ হয়েছেন।
এরই মধ্যে গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জ্যোতি সিনকু ‘ডাইনি’ বিদ্যা চর্চা করেন এবং তার কারণেই বিরুয়া অসুস্থ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরুয়ার মৃত্যু হলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে।
হাসপাতালের শয্যা থেকে কোলহান সিনকু জানান, ওই রাতেই প্রায় ১২ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে নারীও ছিলেন। তারা জ্যোতি ও তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। কোলহান বলেন, “আমি হাতজোড় করে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে বিষয়টি মিমাংসার জন্য অনুনয় করেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেননি।”
ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশটিতে শুধু ‘ডাইনি’ সন্দেহে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুবিধাবঞ্চিত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কুসংস্কারের প্রকোপ এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাবের কারণে মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে উন্নত চিকিৎসা নিতে না পেরে অনেক পরিবার তুকতাক বা জাদুটোনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, যা প্রায়শই এ ধরনের ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, কুসংস্কার বিরোধী সচেতনতা বাড়াতে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
