রোজার ভেতরেই নারী আসনের ভোট, ঈদের পর দুই শূন্য আসনে উপনির্বাচন

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যদিকে, ঈদুল ফিতরের পরে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজা রেখেই সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। একইসাথে ঈদের পরে দেশের দুইটি শূন্য সংসদীয় আসনের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

যেভাবে নির্ধারিত হয় নারী আসন

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনগুলো বণ্টন করা হয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে। তবে এই নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ভোট দেন না; ভোট দেন সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্যই। অর্থাৎ, পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হন সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদরা।

ত্রয়োদশ সংসদের বর্তমান

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, সংসদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। ফলে এই জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২-তে।

অপরদিকে, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্থান পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন লাভ করেছে। ফলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন পেয়েছে এবং সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক। সে কারণে সংরক্ষিত আসনের সদস্যরাও যাতে প্রথম অধিবেশনেই যোগ দিতে পারেন, সেজন্য দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় ইসি।

নির্বাচন প্রক্রিয়া

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রথম ধাপে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল ও জোটকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাতে চিঠি দেবে ইসি। তারপরই সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ ও ভোটার তালিকা তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ করেছে ইসি সচিবালয়।

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাত্ত্বিকভাবে ভোটের দিন থাকলেও, বাস্তবে ফল আগেই জানা যায়। কারণ প্রতিটি দল ও জোট তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

কোন দল কতটি করে নারী আসন পেতে পারে

সাধারণ আসনের সংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টনের সম্ভাব্য চিত্র নিম্নরূপ:

· বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট (মোট আসন ২১২): প্রায় ৩৬টি নারী আসন পেতে পারে।
· জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট (মোট আসন ৭৭): প্রায় ১৩টি নারী আসন পেতে পারে।
· ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (১ আসন): আনুপাতিক হারে কিছু আসন পেতে পারে।
· স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা (৭ আসন): তাদের মধ্য থেকে আনুপাতিক হারে একজন নারী আসন পেতে পারেন।

এই বণ্টন চূড়ান্ত হবে সংশ্লিষ্ট দল ও জোটগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানোর পর।