সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন যাচাই শুরু শুক্রবার, দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গুলশানে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই দিন ধরে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়া পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার—দুই দিনই বিকেল ৩টা থেকে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শুরু হবে। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এ সময় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, প্রথম দিনে রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেবেন। যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পেতে মোট ১ হাজার ২৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রিজভী। তার আগে ফরম বিতরণের সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি, মিথ্যা মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতা—এসব বিষয় মনোনয়ন নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে।

জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৫০টি আসন। দলীয় ও জোটভিত্তিক বণ্টনে বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং একটি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল এবং তা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।