ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের আর্থিক দায়-দেনা যাচাইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করেছেন কিনা—এ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ যদি এসব সেবার বিল বকেয়া রাখেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। এ কারণে শুরুতেই প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা যাচাই করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খানের স্বাক্ষরে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড এবং জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো ২২ ও ২৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময়ের মধ্যেই প্রার্থীদের বিল সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পূর্বে সরকারি সেবার বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এই বিধান কার্যকর করতে ইসি বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে কোনো বকেয়া বিলধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।
এ লক্ষ্যে ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টার পর মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এরপর তারা তালিকা যাচাই করে ২২-২৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত জানাবে। একইসঙ্গে মনোনয়ন যাচাইয়ের দিন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকার জন্যও বলা হয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ সময় ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
সংরক্ষিত নারী আসনের মোট ৫০টি আসনের মধ্যে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি এবং জামায়াত-এনসিপি জোট ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
