দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের সংস্কার ও আধুনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুততর, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধন ও নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত উত্তরে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে সময়োপযোগী করা হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে মোবাইল ফোনের এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মামলা দায়ের ও লিখিত জবাব দাখিল, এবং সরাসরি জেরা গ্রহণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে আদালতের সময় ও প্রক্রিয়া উভয়ই সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডিক্রি কার্যকর করতে আলাদা মামলা করার পরিবর্তে মূল মামলার মধ্যেই আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়া সহজ করবে। ফৌজদারি কার্যবিধিতেও সংশোধন এনে মামলার অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পলাতক আসামির ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু জটিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সমন জারিতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং স্বীকারোক্তি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থিত না হয়েও সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বিচারকার্যকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।
মন্ত্রী বলেন, আগে ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক দায়িত্ব পালনের কারণে বিচারকাজে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন ছিল। এ সমস্যা সমাধানে আলাদা করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা কেবল বিচারকাজে মনোযোগ দিতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার নতুন আদালত ও জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৭১টি নতুন আদালত প্রতিষ্ঠা এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। বিচার বিভাগের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ৭০৮ জন কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ৫৫৩ জন নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব পদক্ষেপ ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার পাবে। একইসঙ্গে বিচারব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
