সরাইল হাসপাতালের বেহাল চিত্র সংসদে: ‘চিকিৎসা দেওয়ার বদলে নিজেই চিকিৎসার প্রয়োজন’—রুমিন ফারহানা 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা এই ৫০ শয্যার হাসপাতালটি এখন এমন অবস্থায় রয়েছে যে, “এটি নিজেই যেন একজন অসুস্থ রোগী।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় সংশোধনী বক্তব্যে তিনি সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, সরাইলের হাসপাতালটি জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরও ঘাটতি প্রকট। পাশাপাশি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে।

তিনি সংসদে তুলে ধরেন, হাসপাতালটিতে কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের ৯টি পদ, নার্সের ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ২টি, ফিল্ড স্টাফের ১৫টি এবং স্বাস্থ্য সহকারীর ৮টিসহ মোট ৬৪টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও হতাশার কথা জানান তিনি। রুমিন বলেন, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি থেমে যায়। ফলে পুরোনো দুইতলা ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে একই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকার হাসপাতাল সংকট, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার কাছাকাছি ইতোমধ্যে ১০০ শয্যার ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শেষের পথে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে নতুন হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টিও দেখা হতে পারে বলে তিনি জানান।

পরে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান তার প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্পিকার কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংসদের সম্মতিতে সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।