গুয়াংজু মেলায় ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল: নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা

নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চীনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধিদল। ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৬ষ্ঠ গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারে যোগ দেয়।

মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা বিভিন্ন খাতের চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার ও টুলস, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণ সামগ্রী খাতের প্রায় ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সরবরাহ শৃঙ্খল বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সহযোগিতা বিদ্যমান। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ খাতে এই সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন এবং রপ্তানি ছিল ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্য, যান্ত্রিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, ধাতু, প্লাস্টিক, খনিজ ও উদ্ভিজ খাতে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিকোল ফ্যান বলেন, চীন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ জোরদারে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এই মেলায় অংশ নেবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রেতারা চীনের বিস্তৃত সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন এবং নতুন অংশীদারিত্ব ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সুযোগ পাচ্ছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে।