ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে নতুন বার্তা: তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে চীনের আগ্রহ

বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, কূটনীতি, গণমাধ্যম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ খাতে সরকারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পেশাগত সম্পর্ক আরও সুসংহত করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। এই লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে চায় বেইজিং, যা দুই দেশের গণমাধ্যম খাতের মধ্যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি আরও জানান, দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে চলতি বছরের জুলাই ও অক্টোবর মাসে দুটি আলাদা শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংবাদিক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করে চীন। এতে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে দেশটির সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, ফলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ এবং ভবিষ্যতে এসব খাতে যৌথ কাজ আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।