- স্বচ্ছ তালিকা তৈরির ওপর জোর, তিন মাস আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
হাওর অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাত যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় কোনো অযোগ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হয় এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কেউ বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে মাথাপিছু ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চালুর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
সভায় জানানো হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে তালিকা প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সভায় ভবিষ্যতে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে ফসলের ক্ষতি কমিয়ে আনতে ধান রোপণ ও ধান কাটার মৌসুম কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো ফসল ঘরে তোলা গেলে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষককে সরকার একা ফেলে রাখবে না।
বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন। এছাড়া হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সংসদ সদস্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ আরও অনেকে সভায় অংশ নেন।
