বার কাউন্সিলের নির্বাচন ‘জ্বালানি সংকট’-এর অজুহাতে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হঠাৎ করে স্থগিত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। “জ্বালানি সংকটকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে এটি অন্য কোনো উদ্দেশ্যের অংশ কিনা, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে,”—বলেন তিনি।
আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, আগামী ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই হঠাৎ করে গভীর রাতে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পুরো বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে জ্বালানি সংকটের ব্যাখ্যা একভাবে দেওয়া হলেও বাস্তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে। বার কাউন্সিলের মতো একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনও একই অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর বার কাউন্সিল নির্বাচন হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার নজির থাকলেও বর্তমানে তেমন কোনো জরুরি অবস্থা নেই। তারপরও নির্বাচন আয়োজন না করে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিয়মিত নির্বাচন অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না করে তা স্থগিত রাখা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।
এ সময় সংসদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়টি কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জবাবে আখতার হোসেন জানান, তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে লিখিত নোটিশ দেবেন। একইসঙ্গে আইনমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
