ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান: জাতিসংঘে বাংলাদেশের জোরালো বক্তব্য

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সক্ষমতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের (সিপিডি) ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এখনও বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগে বড় ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

রাষ্ট্রদূত উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার যেন দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে হয়, সে বিষয়ে জোর দিয়ে শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের অগ্রগতির দিক তুলে ধরে তিনি জানান, মাতৃমৃত্যু হার কমানো, টিকাদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং নারীর ক্ষমতায়নে দেশটি উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং তাৎক্ষণিক রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলো বাংলাদেশে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও কার্যকর করে তুলছে।

তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অসংক্রামক রোগের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

শেষে তিনি বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা জরুরি এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।