স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে ইসি ও আদালত: রিজভী

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আদালতের বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত বা প্রস্তাব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কে নির্বাচনে অংশ নেবে আর কে নেবে না, সেটি নির্ধারণ করবে আদালত ও নির্বাচন কমিশন। এটি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়। অন্য রাজনৈতিক দল কী বলছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিএনপি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ওপর আস্থা রাখছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এদিকে, এদিন রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বা অডিট রিপোর্ট জমা দেয়। প্রতিনিধিদলে দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ পঞ্জিকা বছরে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে বছর শেষে বিএনপির তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক স্থিতিসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় তহবিলে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। দলের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের চাঁদা, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান এবং ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ, প্রচারপত্র প্রকাশ, কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ইতোমধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে মত দিয়েছেন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

তিনি বলেন, “দলের জাতীয় কাউন্সিল খুব দ্রুত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। টানা তিন বছর কোনো দল এ হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে আইন অনুযায়ী এ হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে আসছে।