মশা নিয়ন্ত্রণে দেশীয় প্রযুক্তির ওপর জোর দিলেন : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশীয় উদ্ভাবন ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভবনের সেমিনার হলে ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ড আয়োজিত ‘মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি উদ্ভাবক এম. এ. হামিদ তাঁর উদ্ভাবিত মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা, উদ্ভাবনী কৌশল এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন, আহ্বায়ক, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ. এন. এইচ. আখতার হোসাইন, এফআইই (বি), পিইঞ্জিনিয়ার (বিপিইআরবি), বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পরিবেশ সম্পাদক, সাবেক সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ডের প্রধান উপদেষ্টা।

উদ্ভাবক এম. এ. হামিদ বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু, পরিবেশ ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় লার্ভা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমবে, মান নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। সরকার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। উন্মুক্ত স্থান, নালা-নর্দমা ও জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে হবে।

এদিকে অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তারের বর্তমান মৌসুমে মশার লার্ভা ধ্বংস করাই প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা গেলে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও উদ্ভাবকদের যৌথ কর্মসূচি সফল হবে। বর্তমানে মশা নিয়ন্ত্রণে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আশানুরূপ কার্যকর হচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি নতুন প্রযুক্তিটি সম্ভাবনাময়। এটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির উৎপাদন শুধু জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে না, বরং নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানের উপসংহারে বক্তারা বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণকে শুধু স্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দেশীয় উদ্ভাবনে নীতিগত সহায়তা, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং সরকার, স্থানীয় সরকার ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি সফল মডেল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।