বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী: সংসদে অভিনন্দনের ঝড়

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় সংসদে তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে প্রধান হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং পুরো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মর্যাদাকে বিশ্বমঞ্চে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। একজন নেতা সম্মানিত হলে তার সঙ্গে পুরো জাতিও সম্মানিত হয়—এমন মন্তব্য করে তিনি সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বুধবার প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন তারেক রহমান। তালিকায় আরও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউমসহ আরও অনেকে। ‘নেতৃত্ব’ শ্রেণিতে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধান হুইপ তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পথচলার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে অবস্থান করার পর দেশে ফিরে তিনি জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে সংসদে আসার পরপরই তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছেন।

তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি চালু, পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধন, ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতা ও সম্মানীর ব্যবস্থা এবং কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ যেমন তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি মিলেছে এই তালিকার মাধ্যমে।
এদিকে সাময়িকীটির প্রকাশিত প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান ও নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন নেতৃত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি দেশের নেতৃত্বে আসেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তিগত জীবনের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে সাময়িকীটি মূল্যায়ন করেছে।