বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ বাংলাদেশে নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ধরনের বিভেদ ও হিংসা পরিহার করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে দেশ গড়ে তুলতে হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর ভাটারায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে কিছু রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। এমনকি কেউ কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও অস্বীকার করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, যেখানে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সনাতন, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে। ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, এটিকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আনা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হলেও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বারবার পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদের কথা জানালেও কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার তেল সংগ্রহ করছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ সময় তিনি দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবার প্রতি ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
