আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, আগামী ১২ মার্চ অথবা তার দুই-তিন দিন আগে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রথম অধিবেশন ডাকেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট হয় এবং পরদিন ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়। সে হিসাবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন বসানো বাধ্যতামূলক। নতুন সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন এবং শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
ইতিমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নেতৃত্বেই নতুন সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে এখনও স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপের পদে কেউ নির্বাচিত হননি।
অপরদিকে, বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মো. নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গৃহীত জাতীয় সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার রয়েছে। সেসূত্রে এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন?
সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন এবং পরবর্তীতে ওই ভাষণের ওপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন। তবে প্রথম দিন কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় বর্তমানে উভয় পদই শূন্য। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি সভাপতিত্ব করতে পারবেন।
তবে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁর সভাপতিত্বেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোগ্রহণ হয়। চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি ও তাদের মিত্ররা তিনটি আসনে জয় পায়। জামায়াতে ইসলামী ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, খেলাফত মজলিস ১, ইসলামী আন্দোলন ১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হন।
