ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, সরকারের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব শুধু তার একার নয়, সেখানে গণমাধ্যমই মূল ভূমিকা পালন করে। কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না যদি গণমাধ্যমকে নির্ভয়ে কাজ করতে না দেওয়া হয়। তাই তিনি গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান।
শনিবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না যদি স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকে। আর স্বাধীনতা ঠিক থাকে না যদি জবাবদিহি না থাকে। তাই আমি স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহিটাও নিশ্চিত করব।” তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা। এই পেশার যেকোনো সমস্যা পেশাগত কাঠামোর মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকার ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ওয়েজ বোর্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা:
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জোয়ার-ভাটার পানি নদী থেকে কৃষকের জমি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত করতে ভাঙ্গা থেকে পায়রা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ কাজ নতুন করে শুরুর প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
ভোলার গ্যাস উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস পুরোপুরি উত্তোলন করতে পারলে শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারা দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে গ্যাস সরবরাহের জন্য ভোলা-বরিশাল সেতু ও গ্যাস নেটওয়ার্ক—দুটো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা:
সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা খুব শিগগিরই প্রচার করা হবে। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ধীরে ধীরে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।” নারী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আশা করছেন, এ মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
