দিল্লিতে ভারতীয়দের জন্য ভিসা কার্যক্রম চালু করল বাংলাদেশ

প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সেবা চালু করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই সেবা দেওয়া শুরু হয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত এলো। বাংলাদেশ হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ভারত সরকার জানিয়েছিল, তারা খুব শিগগিরই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুরোদমে ভিসা কার্যক্রম চালু করবে।

গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ছড়ালে ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকার অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিন চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

এর জের ধরে ২১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরের দিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের এই দূরত্ব কমতে শুরু করে। ফলাফল পুরোপুরি প্রকাশের আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে একই দিন টেলিফোনে তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

নতুন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে’র ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারেননি। তবে তার পক্ষে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস সাংবাদিকদের জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তার এই ঘোষণার পরের দিনই দিল্লিতে নিজেদের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করল বাংলাদেশ।