ড্রামে শিশুর লাশ মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর কদমতলীর সাত বছরের এক শিশুর ড্রামে ভর্তি লাশ উদ্ধারের পর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই পরিবারের মধ্যে চলা বিরোধের জের ধরেই প্রতিবেশী ওই নারী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে এবং পরে লাশ গুম করতে গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফেলে আসে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বুধবার শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর সেদিনই প্রতিবেশী মায়া বেগম ওরফে লাবনী (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন শিশুটির মা মুন্নি আক্তার কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, তার ছেলে খেলতে বের হয়ে আর ফিরেনি। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

বুধবার রাত ৮টার দিকে গেন্ডারিয়া থানা এলাকার লোহারপুলে ময়লার স্তূপের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে মুন্নি আক্তারকে গেন্ডারিয়া থানায় নিয়ে গেলে তিনি লাশটি তার নিখোঁজ ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

তদন্ত দল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং লাশের কাছে থাকা কাপড় এলাকাবাসীকে দেখিয়ে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। শিশুটির বোনকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ওই রকম কাপড় প্রতিবেশী মায়া বেগমের মেয়ের গায়ে দেখা গেছে। পরে পুলিশ মায়ার বাড়িতে গেলে তিনি ওই ধরনের কাপড় থাকার কথা স্বীকার করলেও সেটি খুঁজে দেখাতে পারেননি। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মায়া বেগমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি ঘটনার বিবরণ দেন। তার দাবি, কয়েকদিন আগে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়, যার জন্য তিনি মুন্নি আক্তারের মেয়েকে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

ওই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার রাস্তায় মুন্নির ছোট ছেলেকে একা পেয়ে খাবারের কথা বলে বাসায় ডেকে নেন মায়া। সেখানে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের কথা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে তিনি রেগে শিশুটিকে জোরে থাপ্পড় দিলে শিশুটির মাথা খাটের সঙ্গে লেগে যায়। মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর পর মায়া ঘরে রাখা প্লাস্টিকের চালের ড্রামে শিশুটির লাশ ভরে রাখে। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি অটোরিকশায় করে ড্রামটি গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে ফেলে আসে সে।