মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ীদের সাথে ডিএমপি কমিশনারের জরুরি সভা

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বাধা পাওয়ার এক দিন পর শুক্রবার এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএমপি কমিশনার বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বুধবার মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দল। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে অভিযান অসমাপ্ত রেখেই ফিরে যেতে হয় তাদের।

এর ঠিক একদিন পর শুক্রবার বিকালে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে জরুরি সভায় বসেন ডিএমপি কমিশনার। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজারে অভিযান চালাবেন, তখন ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।”

দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”

উল্লেখ্য, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে বুধবার মৌলভীবাজারে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ‘মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স’ ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়েছে।

দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ার কথা বললেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলে জানান অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। পরে ওই দোকানি স্বীকার করেন, তারা পণ্য বাকিতে এনে বিক্রি করেন এবং মূল্য পরিশোধের সময় ক্যাশমেমো দেওয়ায় তারা সেটি দেখাতে পারছেন না।

এই পদ্ধতি আইন পরিপন্থি হওয়ায় ভোক্তা অধিদপ্তর ‘মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্সকে’ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ সময় স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নেতা জরিমানার অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করে দোকানপাট বন্ধ করার ঘোষণা দেন। ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোক্তা অধিদপ্তরের দলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।