বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ভারতের

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার ‘বহুমাত্রিক’ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।

মুখপাত্র বলেন, ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছে বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। জয়সওয়াল জানান, এসব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেক দফা অবনতি ঘটে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

তবে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে গতি ফিরতে শুরু করে। নির্বাচনের ফল আসার আগেই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদী। ফল ঘোষণার পর টেলিফোনে কথা বলেন তারা।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি অংশ নিতে পারেননি। তবে তার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার ওম বিড়লা।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমেও গতি এসেছে। শুক্রবার থেকে দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।