সাতক্ষীরা: সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যে মাছ ধরার অপরাধে ২২ জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ।
শুক্রবার গভীর রাতে মান্দারবাড়িয়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এই বিপুল সংখ্যক জেলেদের আটক করেন।
আটকৃত জেলেরা মূলত পটুয়াখালী ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। অভিযানের সময় তাদের বহনকারী দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়। বন বিভাগের হাতে ধরা পড়া মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ মণ শাপলা পাতা মাছ এবং বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার অভিযানে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর গ্রামের জামাল হাওলাদার (৩২), কালু (৪৮), ফরহাদ (৩০), ইয়াছিন খান (৪০), দুলাল গাজী (৩০), হানিফ হাওলাদার (৪০), মহিপুর গ্রামের ছোমেদ (৪৫), চাপলি গ্রামের রাসেল (৩০) এবং বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার শফিকুল খান (২০) আটক হন। এছাড়া প্রথম অভিযানে আরও চার কিশোর জেলে ধরা পড়ে, যারা নাবালক হওয়ায় তাদের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখছে প্রশাসন।
দ্বিতীয় অভিযানে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ইমাদুল (৪২), জয়নাল (৪৫), মোঙশে বাবু (৫০), রফিকুল (৩৮), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মাসুম (২৬), জামাল হোসেন (৪৫), ইয়াসিন জমাদ্দার (৪৫) ও গোলাম মোস্তফাকে (২৩) আটক করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, টহলরত বনকর্মীদের সতর্ক চোখ এড়ায়নি জেলেদের তৎপরতা। রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনে ঢুকে মাছ সংগ্রহের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে তারা। তিনি আরও জানান, সংরক্ষিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও মাছ ধরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আটক জেলেদের শনিবার সকালে লোকালয়ে আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জব্দকৃত মাছের চালান নষ্ট করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।
